Johnson & Johnson পাউডার ক্যান্সারের প্রধান কারন, রিপোর্ট যা বলছে তা জানলে আপনি চমকে যাবেন…

0
12967

৫ই মে, ২০১৭ Fox Business এ একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, আদালতে কেস ফাইলে বলা হয়েছে বাচ্চাদের পাউডার Johnson & Johnson কে কোটি টাকার জরিমানা দিতে হয়েছে চতুর্থ বারের জন্য। মহিলাদের ডিম্বাশয়ে ক্যান্সারের সম্ভাব্য কারন হিসাবে এই পাউডারকেই ধরা হচ্ছে। Johnson & Johnson বেবি পাউডার প্রথম বাজারে এসেছিল ১৮৯৪ সালে আমেরিকায়। পাউডার হচ্ছে খনিজ পদার্থের সবচেয়ে নরম অংশ যাকে গুঁড়ো করে সাদা পাউডার রূপে ব্যবহার করা হয়। এটি ব্যাপক অর্থে প্রসাধনী সামগ্রী রূপে ব্যবহার হয়। সাধারনত আমাদের শরীরের ঘামকে শুষে নিতেই এই পাউডারের ব্যবহার হয়।

দেখুন বিস্তারিত রিপোর্ট !

প্রচলিত কথা বনাম সত্যতা …

ক্যান্সার রুগীদের দবি অনুযায়ী এই পাউডার ব্যবহারকারিদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই Johnson পাউডারের বাজার চরম সংকটের মুখে পড়েছে । এই সকল অভিযোগকে সামনে রেখে আসুন আমরা বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি, তার মধ্যে কতোগুলি কেস ফাইল হয়েছে, কতো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে কোম্পানি, বিনিয়োগকারীদের কি অভিমত, রিসার্চ ও বৈজ্ঞনিক অভিমত ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সবই জানবো আমরা।

ক্যান্সার সৃষ্টির অভিযোগে J&J এর বিরুদ্ধে মামলা

৪ ঠা মে, ২০১৭ St. Louis জুরি ১১০.৫ মিলিয়ন ইউ এস ডলার লুইস স্লেম্পকে ক্ষতিপূরণ দেবার আদেশ দেন, লুইস স্লেম্প ৬২ বছর বয়সী এক মহিলা যিনি থাকেন ওয়াইস এ, ভার্জিনিয়ায়। তার ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার ধরা পরে ২০১২ সালে। স্লেম্প তার অসুস্থতার কারন হিসাবে ৪০ বছর ধরে ব্যবহার করা ট্যালকম পাউডারকেই দায়ী করেছিলেন।

এই কেসটি ছাড়াও আরো তিনটি কেস St. Louis জুরি পরীক্ষায় ২০১৬ সালে একইরকম ফল লাভ করেছে। ওই কেসগুলিতে তাদের দিতে হয়েছে যথাক্রমে USD ৭২ মিলিয়ন ডলার, USD ৭০.১ মিলিয়ন ডলার ও USD ৫৫ মিলিয়ন ডলার। সর্বমোট USD ৩০৭.৬ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ। যদিও কোম্পানি তাদের প্রোডাক্টের সপক্ষেই বলেছেন, তারা বরাবরই বলে এসেছেন তাদের এই প্রোডাক্ট সম্পূর্ণ নিরাপদ। Johnson & Johnson কে সম্প্রতি যে রায়দানটি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আদালতে আপিল করতে চলেছে তারা।

J&J কয়েকটি ক্ষেত্রে জিতেছে

Johnson & Johnson কিছু কেস জিতেওছে। ২০১৭ এর বছরের মার্চ মাসে তারা একটি কেসে জয়লাভ করে, এবার কি পারবে তাদের দ্বিতীয় কেসে জয় ঘরে তুলতে ? মার্চ ২০১৭ তে St. Louis জুরি বাতিল করে দেন এক মহিলার আবেদনকে যিনি ডিম্বাসয় ও জরায়ুসংক্রান্ত ক্যান্সারে ভুগছিলেন। এছাড়াও নিউ জার্সিতে আরো দুটি কেসে আবেদনকারীর যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় তা বাতিল বলে ঘোষনা করা হয়। জুরি ঘোষনা করেন “আদালতের সামনে যথেষ্ট প্রমান দিতে না পারার জন্য যে ডিম্বাশয় ক্যান্সারের কারন পাউডার তাই এই কেসটিকে বাতিল বলে ঘোষনা করা হলো”।

পরীক্ষার লাইন আপে আছে দুটি কেস। বেবী পাউডার পরীক্ষা St. Louis এ এবং আর একটি California তে

Johnson & Johnson স্বাস্থ্য যত্ন পণ্য

এই সকল অভিযোগের কারনে কোম্পনীর শেয়ার নিম্নমুখী। যদিও বিনিয়োগকারিরা এখনো চিন্তিত নন যে কোম্পানী চরম আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুক্ষীন হতে পারে। ২০০০ টির মতো কেস তাদের লড়তে হচ্ছে। J&J শেয়ার একদিনে রেকর্ড ৬২ সেন্ট পরে গিয়ে USD ১২৩.১০ দাম হয়েছিল দ্বিপ্রাহরিক লেনদেনে মে ৫, ২০১৭ তে।

ফক্স রিপোর্টে বলে Johnson & Johnson যারা দুনিয়ার সর্বাধিক বিক্রীত হেল্থ কেয়ার প্রোডাক্ট কোম্পানী হিসাবে জানা যায়, যাদের এক বছরের বিক্রী USD ৭২ বিলিয়ন। যারা বিক্রী করে প্রেসক্রিপশন ড্রাগস, মেডিক্যাল সরঞ্জাম, রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি, হেল্থ কেয়ার প্রোডাক্ট, বেবি শ্যাম্পু থেকে অ্যাভিনো স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট পর্যন্ত, এছাড়াও Tylenol pain reliever এবং Band-Aids অন্যতম। এইসকল বিখ্যাত সামগ্রী Johnson এর তালিকায় থাকার ফলে কোম্পানির বিনিয়োগকারিরা বিন্দুমাত্র বিচলিত হোন না। কোম্পনিও তাদের বেবি পাউডার নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অভিযোগ কতটা সত্য?

এতো সব আলোচনার পরেও ধোঁয়াশা থেকেই যায় যে পাউডার কি ক্যন্সারের কারন না কারন নয় ? সঠিক উত্তর পাওয়া দুষ্কর, ক্যান্সারের সঠিক কারন খুঁজে বের করা কঠিন। কিছু সংখ্যক মহিলাদের মধ্যে এই সমীক্ষা চালিয়ে দেখলেও এর সমাধান হওয়া মুশকিল ।

ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার মারাত্মক কিন্তু বিরল

ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার প্রাণঘাতী হতে পারে কিন্তু খুব কম মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়। ১.৭ মিলিয়ন নতুন ক্যান্সার রুগীদের মধ্যে আমেরিকায় মাত্র ২২,৪০০ রুগীর ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার ধরা পরেছে। ডিম্বাশয়ে ক্যান্সারের মূল কারণগুলি হলো বয়স, অতিরিক্ত ওজন, মেনোপজের পরে এস্ট্রোজেন থেরাপি, সন্তানহীনতা ইত্যাদি।

পাউডার কি সত্যি ক্যান্সার এর কারন ?

রিসার্চ স্টাডি অনুযায়ী কোন রকম সম্পর্ক পাওয়া যায়নি পাউডার ও জনন সম্বন্ধীয় ও ডিম্বাশয় ক্যান্সারের। কম করে দু ডজন ছোট স্টাডি গ্রুপ গত তিরিশ বছর ধরে সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন ২০% থেকে ৪০% পাউডার উপভোক্তাদের মধ্যে এই সামান্য সম্ভাবনা দেখা গেছে।

এর মানেই এই নয় যে পাউডারই ক্যান্সারের কারন। কোথাও প্রমাণিত হয়নি যে পাউডার দেহের অভ্যন্তরে ঢুকে ডিম্বাশয় ক্যান্সারের সূত্রপাত করাতে পারে। Dr. Hal C Lawrence III Vice President of the American College of Obsetetrics and Gynecology খারিজ করে দেন এই তত্বে যে পাউডারই হলো ডিম্বাশয় ক্যান্সারের কারন। তিনি বলেন “একমাত্র ঈশ্বরই জানেন, যদি সত্যি তাই হতো তাহলে যে পরিমাণ পাউডার আমরা বাচ্চাদের শরীরে ব্যবহার করে থাকি তাতে তার পরিণাম ভয়ংকর হতো, কিন্তু তা হয় নি আমাদের সৌভাগ্য॥”

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে CBS News রিপোর্ট অনুযায়ী একটি বৃহৎ সমীক্ষায় দেখা গেছে জুন ২০১৬ তে ৫১০০০ স্তন ক্যান্সারের রুগী যারা জনন সম্বন্ধীয় পাউডার ব্যবহার করেন তাদের ডিম্বাশয় ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম ২৭% যাদের তুলনায় যারা একদমই এই পাউডার ব্যবহার করেন না।

এছাড়াও দুটি বড় ইউ এস স্টাডিস The Women’ s Health Initiative ও The Nurses’ Health Study সমীক্ষায় দেখেছে কোন রকম বাড়তি ঝুঁকি ডিম্বাশয় ক্যান্সারের ক্ষেত্রে নজরে আসে না এই পাউডার ব্যবহারকারিদের মধ্যে।

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে “যে কোন মহিলার ক্ষেত্রেই ক্ষতির আশঙ্কা যদিওবা থাকে তা খুবই কম”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here